ঢাকা সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ফাঁকা শিক্ষাভবন, বদলি শঙ্কায় নতুন এমপিদের দ্বারস্থ কর্মকর্তারা

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১০:১৯ রাত

ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর শিক্ষাপ্রশাসনের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ‘শিক্ষাভবন’। এখানেই অবস্থিত মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। কিন্তু রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন-পরবর্তী প্রথম কর্মদিবসে ভবনটির বিভিন্ন তলায় গিয়ে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র—অধিকাংশ কক্ষেই দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা অনুপস্থিত, অনেক চেয়ার ফাঁকা।

তৃতীয় তলার একটি শাখা কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, সংশ্লিষ্ট সহকারী পরিচালকের কক্ষ তালাবদ্ধ। মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, এলাকায় সদ্য নির্বাচিত সংসদ সদস্য ঢাকায় এসেছেন, তাঁর সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা বলেন, বদলির আশঙ্কা এখন অনেকের মধ্যেই কাজ করছে। তাই নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নিজেদের অবস্থান নিশ্চিত করতে অনেকে উদ্যোগ নিচ্ছেন।

বদলি আতঙ্কে অস্থিরতা

শুধু মাউশি নয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন একাধিক দপ্তর-অধিদপ্তরেও একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। প্রশাসনের ভেতরে বদলি ও পদায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে যেসব কর্মকর্তা দীর্ঘদিন প্রশাসনিক পদে আছেন এবং চাকরির মেয়াদ শেষের দিকে, তাঁদের মধ্যে উৎকণ্ঠা বেশি।

কয়েকজন কর্মচারী জানান, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বড় ধরনের রদবদল হতে পারে—এমন ধারণা থেকেই অনেক কর্মকর্তা রাজনৈতিক যোগাযোগ জোরদার করছেন। কে কোন পদে থাকবেন বা বদলি হবেন—এসব নিয়ে নানা আলোচনা চলছে দপ্তরগুলোতে।

গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরেও অনুপস্থিতি

শিক্ষাভবনের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর (ডিআইএ)-এ গিয়েও সীমিত উপস্থিতি দেখা যায়। এক কর্মকর্তা বলেন, এ দপ্তরকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে ধরা হয়। তাই এখানে দায়িত্ব ধরে রাখতে অনেকেই চেষ্টা করছেন। নতুন সরকারের সময়ে রদবদল হতে পারে—এমন গুঞ্জন রয়েছে।

অন্যদিকে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর-এর প্রধান কার্যালয়েও কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তাকে দপ্তরে পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তাঁরা মন্ত্রণালয়ে বৈঠকে আছেন বলে জানানো হয়েছে। তবে এ নিয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অতীতের রদবদল, নতুন প্রত্যাশা

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় শিক্ষাপ্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে একাধিকবার পরিবর্তন আনা হয়। বিশেষ করে মাউশির মহাপরিচালক পদে দেড় বছরে কয়েকবার বদলির ঘটনা ঘটে। একই সময়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি), বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (ব্যানবেইস), জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমি (নায়েম) এবং মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তর-এও পরিবর্তন আসে।

শিক্ষা প্রশাসনের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মনে করছেন, নতুন সরকার যোগ্যতার ভিত্তিতে পদায়ন নিশ্চিত করলে প্রশাসনে স্থিতিশীলতা ফিরবে। একজন পরিচালক পর্যায়ের কর্মকর্তা বলেন, চেইন অব কমান্ড শক্তিশালী না হলে এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত না করলে কাঙ্ক্ষিত সংস্কার সম্ভব হবে না।

অন্যদিকে শিক্ষাবিদদের একাংশের মত, রাজনৈতিক বিবেচনার পরিবর্তে পেশাগত দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া জরুরি। তা না হলে প্রশাসনিক অস্থিরতা অব্যাহত থাকবে এবং নীতিনির্ধারণে ধারাবাহিকতা আসবে না।

সেবাপ্রত্যাশীদের ভোগান্তি

রোববার শিক্ষাভবনে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা সেবাপ্রত্যাশীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতির কারণে অনেকেই প্রয়োজনীয় সেবা পাননি বলে অভিযোগ করেন।

নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর শিক্ষাপ্রশাসনে কী ধরনের পরিবর্তন আসে, সেটিই এখন সংশ্লিষ্ট সবার নজরে। বদলি ও পদায়ন ঘিরে অনিশ্চয়তার মধ্যেই দপ্তরগুলোতে কাজের স্বাভাবিক গতি ফেরানো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Link copied!