ঢাকা শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

আলোচনায় থেকেও ভোটযুদ্ধে পিছিয়ে পড়লেন যেসব প্রার্থী

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ০৩:৩৬ দুপুর

ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বড় দলগুলোর বিজয় নিশ্চিত হলেও বেশ কয়েকজন বহুল আলোচিত প্রার্থীর পরাজয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। টেলিভিশন টকশো, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, আন্দোলন কিংবা দীর্ঘ রাজনৈতিক সক্রিয়তার কারণে এদের ঘিরে জনমনে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ভোটের অঙ্কে সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন দেখা যায়নি।

পঞ্চগড়-১ আসনে আলোচিত তরুণ মুখ সারজিস আলমকে হারিয়ে বেসরকারিভাবে জয় পেয়েছেন বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার নওশাদ জমির। ধানের শীষ প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ২২ হাজার ১৩৪ ভোট। অন্যদিকে সারজিস আলম পেয়েছেন ২০ হাজার ১৯৯ ভোট।

ঢাকা-৯ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারা ভোটের লড়াইয়ে পিছিয়ে পড়েন। ফুটবল প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৪৪ হাজার ৬৮৪ ভোট। এ আসনে বিএনপির প্রার্থী হাবিবুর রশিদ ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ১১ হাজার ২১২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে জয়ী হন।

ঢাকা-৮ আসনে প্রচার-প্রচারণা ঘিরে ব্যাপক আলোচনায় থাকা নাসীরউদ্দীন পাটওয়ারী শেষ পর্যন্ত পাঁচ হাজারের বেশি ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন। বিএনপির প্রার্থী মির্জা আব্বাস ৫৬ হাজার ৫৫২ ভোটের সঙ্গে ২ হাজার ৮১৪ পোস্টাল ভোট মিলিয়ে মোট ৫৯ হাজার ৩৬৬ ভোট পান। নাসীরউদ্দীন পাটওয়ারী ৫১ হাজার ৫৭২ ভোটের সঙ্গে ২ হাজার ৫৫৫ পোস্টাল ভোটসহ মোট ৫৪ হাজার ১২৭ ভোট অর্জন করেন।

সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির বড় ব্যবধানে হেরে যান। বিএনপির নাছির উদ্দিন চৌধুরী ধানের শীষ প্রতীকে ৯৭ হাজার ৭৯০ ভোট পেয়ে জয়ী হন। শিশির মনির দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পান ৫৭ হাজার ৮৫৮ ভোট।

বরিশাল-৩ (মুলাদী-বাবুগঞ্জ) আসনে আলোচিত প্রার্থী ব্যারিস্টার ফুয়াদ (আসাদুজ্জামান ভূঁইয়া) প্রায় ২১ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন। বিএনপির জয়নাল আবেদীন পান ৭৮ হাজার ১৩১ ভোট। ফুয়াদ ঈগল প্রতীকে পান ৫৭ হাজার ১৪৯ ভোট।

ফেনী-2 আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু ৮০ হাজার ৫৮ ভোট পেলেও জয় পাননি। বিএনপির প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক জয়নাল আবদিন ১ লাখ ৩১ হাজার ২১০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন।

ঢাকা-১৩ আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হককে হারিয়ে জয়ী হন বিএনপির ববি হাজ্জাজ। ধানের শীষ প্রতীকে তিনি পান ৮৮ হাজার ৩৮৭ ভোট।

খুলনা-৫ আসনে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার অল্প ব্যবধানে হেরে যান। তিনি দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পান ১ লাখ ৪৪ হাজার ৯৫৬ ভোট। বিএনপির মোহাম্মদ আলি আসগার লবি ১ লাখ ৪৭ হাজার ৬৫৮ ভোট পেয়ে জয়ী হন। ব্যবধান ছিল ২ হাজার ৭০২ ভোট।

বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না প্রত্যাশিত ফল পাননি। কেটলি প্রতীকে তিনি মাত্র ৩ হাজার ৪২৬ ভোট পেয়ে জামানত হারান। বিএনপির মীর শাহে আলম ১ লাখ ৪৫ হাজার ২৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন।

ঢাকা-১২ আসনে বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থী সাইফুল হককে হারিয়ে জামায়াতের সাইফুল আলম জয়ী হন। দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে তিনি পান ৫৩ হাজার ৭৭৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ৩০ হাজার ৯৬৩ ভোট পান।

ঢাকা-১৬ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী আমিনুল হককে হারিয়ে জয় পান জামায়াতে ইসলামীর আব্দুল বাতেন। দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে তিনি ৮৮ হাজার ৮২৮ ভোট পান। আমিনুল হক পান ৮৫ হাজার ৪৬৭ ভোট।

নির্বাচনী মাঠের এই ফলাফল প্রমাণ করেছে—আলোচনা, জনপ্রিয়তা বা সামাজিক উপস্থিতি থাকলেই ভোটের সমীকরণ মিলবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করেছে ভোটারদের রায়।

Link copied!