ঢাকা শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ঝুঁকিতে রোগীর জীবন

সরকারি অ্যাম্বুলেন্স ও চালক সংকটে টেকনাফ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

সালাহ উদ্দিন আহমেদ, কক্সবাজার প্রতিনিধিঃ

প্রকাশিত: ০৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ০৩:২১ দুপুর

ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিন ধরে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স ও দক্ষ চালকের অভাবে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা। জরুরি মুহূর্তে রোগীকে জেলা সদর হাসপাতাল কিংবা চট্টগ্রামের উন্নত চিকিৎসাকেন্দ্রে পাঠাতে না পারায় তৈরি হচ্ছে ভয়াবহ মানবিক সংকট, যা অনেক সময় প্রাণঘাতী পরিণতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে রোগীদের।

স্থানীয় সূত্র জানায়, টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের অনুমোদন থাকলেও তা নিয়মিতভাবে চালু নেই। কখনো চালক সংকট, আবার কখনো যান্ত্রিক ত্রুটির অজুহাতে দীর্ঘ সময় ধরে অ্যাম্বুলেন্স সেবা বন্ধ থাকে। ফলে জরুরি রোগী পরিবহনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কার্যত অসহায় হয়ে পড়ে।

এ অবস্থায় রোগীর স্বজনদের বাধ্য হয়ে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স কিংবা অনিরাপদ যানবাহনের শরণাপন্ন হতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে রাতের বেলায় অ্যাম্বুলেন্স না পেয়ে গুরুতর অসুস্থ রোগীকে মোটরসাইকেল, অটোরিকশা বা ভাড়া করা গাড়িতে করে নিয়ে যেতে হয়, যা রোগীর জীবনের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ।

দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর জন্য বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের অতিরিক্ত ভাড়া বহন করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ফলে অনেক সময় আর্থিক অক্ষমতার কারণে রোগীকে সময়মতো উন্নত চিকিৎসার কাছে পৌঁছানো যাচ্ছে না।

টেকনাফের স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল করিম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “হাসপাতালে চিকিৎসক থাকলেও রোগী পাঠানোর মতো সরকারি অ্যাম্বুলেন্স নেই। এই অব্যবস্থাপনার কারণে অসংখ্য রোগী পথেই প্রাণ হারাচ্ছে। এটা চরম অবহেলা।”

স্বাস্থ্যখাত সংশ্লিষ্টদের মতে, সীমান্তবর্তী ও দুর্গম উপজেলা হওয়ায় টেকনাফে জরুরি চিকিৎসা সেবার গুরুত্ব অন্য যেকোনো এলাকার তুলনায় অনেক বেশি। এখানে স্থায়ীভাবে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স চালু রাখা এবং প্রশিক্ষিত চালক নিয়োগ না করা হলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

এ বিষয়ে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ জানায়, একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে সমস্যার কথা অবহিত করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কার্যকর ও স্থায়ী কোনো সমাধান পাওয়া যায়নি।

টেকনাফবাসীর জোর দাবি, দ্রুত সময়ের মধ্যে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কার্যকর সরকারি অ্যাম্বুলেন্স সেবা চালু করতে হবে এবং পর্যাপ্ত চালক নিয়োগ দিতে হবে, যাতে জরুরি রোগী পরিবহনে আর কোনো প্রাণহানি না ঘটে।

Link copied!