ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

শীতেও সিলেটে লাগামছাড়া লোডশেডিং, ভোগান্তিতে নগরবাসী

সিলেট প্রতিনিধি:

প্রকাশিত: ৩০ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৩:৪০ দুপুর

ছবি: সংগৃহীত

সিলেটে শীতের তীব্রতা অনেকটাই কমে এলেও বিদ্যুৎ সংকট কমেনি। শীতকাল হলেও নগরীতে চলছে গ্রীষ্মকালের মতো ঘন ঘন লোডশেডিং। এখনো ফ্যান ব্যবহারের প্রয়োজন না পড়লেও দিনের বিভিন্ন সময়ে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়ছেন সাধারণ গ্রাহকরা।

গত বৃহস্পতি ও শুক্রবার সিলেট নগরের জিন্দাবাজার এলাকায় কয়েক দফায় প্রায় পাঁচ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল। একই পরিস্থিতি দেখা গেছে নগরের অধিকাংশ এলাকায়। পুরো জানুয়ারি মাসজুড়েই দিনে একাধিকবার লোডশেডিং হচ্ছে এবং প্রতিবার বিদ্যুৎ চলে গেলে অন্তত এক ঘণ্টা বা তারও বেশি সময় বিদ্যুৎহীন থাকতে হচ্ছে বলে অভিযোগ গ্রাহকদের।

শীত মৌসুমে সাধারণত বিদ্যুতের চাহিদা কম থাকে। তবুও কেন সিলেটে এত ঘন ঘন লোডশেডিং—এ প্রশ্নে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সিলেটের প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল কাদির জানান, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় এই সংকট তৈরি হয়েছে।

তিনি জানান, বর্তমানে সিলেটে প্রতিদিন বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১২০ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৭০ থেকে ৭৫ মেগাওয়াট। ফলে প্রতিদিন প্রায় ৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের ঘাটতি তৈরি হচ্ছে, যার প্রভাব পড়ছে নগরজুড়ে।

শীত মৌসুমেও কেন এই ঘাটতি—এ বিষয়ে তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে সংস্কারকাজ চলছে। পাশাপাশি গ্যাসের সরবরাহ কমে গেছে এবং জ্বালানি কিনতেও সংকট তৈরি হয়েছে। এসব কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন স্বাভাবিক মাত্রায় রাখা সম্ভব হচ্ছে না।

আব্দুল কাদির আরও জানান, সারাদেশে বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১৩ হাজার মেগাওয়াট হলেও উৎপাদন হচ্ছে প্রায় ১০ হাজার মেগাওয়াট। ফলে জাতীয় গ্রিড থেকেই ঘাটতি নিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে হচ্ছে।

তবে পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতির আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যানের সঙ্গে এ বিষয়ে বৈঠক হয়েছে এবং আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

Link copied!