ঢাকা শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

প্রচারণা শেষ অধিকাংশ প্রার্থীই রয়ে গেলেন অপরিচিত

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১২:০২ দুপুর

ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে প্রচারণা শেষ হয়েছে। তবে ভোটের আগমুহূর্তে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চিত্র—অনেক আসনে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক প্রার্থী এখনও ভোটারদের কাছে অপরিচিত। চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, ময়মনসিংহ ও যশোরের বেশ কিছু আসনে বড় দলগুলোর প্রার্থীরা সরব থাকলেও ছোট দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের কার্যক্রম ছিল সীমিত। ফলে ভোটারদের একটি বড় অংশ জানেন না তাঁদের আসনে মোট কতজন প্রার্থী আছেন, এমনকি অনেকের নামও শোনেননি।

ভোটারদের ভাষ্য, বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীদের প্রচারণা চোখে পড়লেও অন্যদের তৎপরতা ছিল তুলনামূলক কম। কোথাও কোথাও প্রার্থীদের ব্যানার, লিফলেট, পথসভা কিংবা গণসংযোগ তেমন দেখা যায়নি। অনেক প্রার্থী পুরো আসনজুড়ে প্রচারণা চালাতে পারেননি। ফলে ভোটারদের সঙ্গে তাঁদের প্রত্যক্ষ যোগাযোগ গড়ে ওঠেনি।

চট্টগ্রামে বড় দলগুলোর দাপট, ছোটদের উপস্থিতি সীমিত

চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনে এবার ১১৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে অধিকাংশ আসনেই ভোটারদের আলোচনায় ঘুরছে মূলত দুই–তিনটি বড় দলের প্রার্থীর নাম। অনেক ছোট দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রচারণা তেমন চোখে পড়েনি বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

মীরসরাই, ফটিকছড়ি, সন্দ্বীপ, সীতাকুণ্ড, হাটহাজারী, রাউজান, রাঙ্গুনিয়া, চান্দগাঁও-বোয়ালখালী, পাঁচলাইশ-বাকলিয়া-কোতোয়ালি ও ডবলমুরিং-পাহাড়তলী-আকবরশাহসহ বিভিন্ন আসনে একই চিত্র দেখা গেছে। ভোটাররা বলছেন, বড় দলের প্রার্থীরা গ্রামে-গ্রামে, বাড়ি-বাড়ি গিয়ে প্রচারণা চালালেও অন্যদের তৎপরতা ছিল সীমিত। ফলে অনেক প্রার্থীর নাম বা মুখ তাদের কাছে পরিচিত হয়ে ওঠেনি।

একাধিক ছোট দলের প্রার্থী জানিয়েছেন, বড় দলগুলোর মতো ব্যয়বহুল প্রচারণা চালানো তাঁদের পক্ষে সম্ভব হয়নি। সীমিত সামর্থ্যের মধ্যে যতটা সম্ভব গণসংযোগের চেষ্টা করেছেন তাঁরা। তবে ভোটারদের কাছে পৌঁছাতে বড় দলের মতো সংগঠনিক শক্তি ও সম্পদ না থাকায় প্রচারণায় পিছিয়ে পড়ার কথাও স্বীকার করেন কেউ কেউ।

রাজশাহীতেও একই চিত্র

রাজশাহীর ছয়টি আসনে এবার ৩২ জন প্রার্থী লড়ছেন। তাঁদের মধ্যে অধিকাংশই দলীয় প্রার্থী। তবে ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিএনপি, জামায়াত এবং কয়েকজন আলোচিত বিদ্রোহী বা স্বতন্ত্র প্রার্থী ছাড়া অন্যদের অনেককেই চেনেন না ভোটাররা।

তানোর, নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ড, চারঘাট ও বাঘাসহ বিভিন্ন এলাকায় ভোটাররা জানান, বড় দলের প্রার্থীদের প্রচারণা চোখে পড়েছে। কিন্তু অন্য প্রার্থীদের তেমন দেখা যায়নি। অনেকেই স্বীকার করেন, তাঁদের আসনে ঠিক কতজন প্রার্থী আছেন, সে তথ্যও সবার জানা নেই।

রাজশাহী-৫ আসনেও একাধিক দলীয় ও স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন। সেখানে কিছু বিদ্রোহী প্রার্থী আলোচনায় থাকলেও অন্যদের উপস্থিতি ছিল তুলনামূলক কম। ফলে ভোটারদের মনোযোগ কেন্দ্রীভূত হয়েছে নির্দিষ্ট কয়েকজন প্রার্থীর দিকে।

ভোটারদের আগ্রহ কোথায়?

ভোটারদের একটি অংশ বলছেন, তাঁরা পরিচিত ও সক্রিয় প্রার্থীদের দিকেই বেশি ঝুঁকছেন। অনেকের মতে, যাঁরা নিয়মিত এলাকায় গেছেন, মানুষের সঙ্গে কথা বলেছেন, তাঁদের নামই বেশি আলোচনায় এসেছে। অপরদিকে যাঁদের প্রচারণা সীমিত ছিল বা যাঁরা এলাকায় কম গেছেন, তাঁরা ভোটারদের কাছে অপরিচিতই থেকে গেছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রচারণায় সরব উপস্থিতি ভোটারদের মনে প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনে সংগঠনিক সক্ষমতা ও মাঠপর্যায়ের যোগাযোগ বড় ভূমিকা রাখে। এবারের নির্বাচনে অনেক আসনে প্রার্থীর সংখ্যা বেশি হলেও ভোটারদের আলোচনায় ঘুরছে সীমিত কয়েকটি নাম—এটাই বর্তমান বাস্তবতা।

Link copied!