ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল) বা বিএনপি। দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন নিশ্চিত করে একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবেই সরকার গঠনের পথে রয়েছে তারেক রহমান-এর নেতৃত্বাধীন এ দলটি। নির্বাচন কমিশন সূত্রে শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত ২৭২টি আসনের ফলাফল হাতে এসেছে বলে জানিয়েছেন ইসির যুগ্ম সচিব মো. মঈন উদ্দিন খান। ঘোষিত ফলাফলে বিএনপি পেয়েছে ২০১টি আসন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী অর্জন করেছে ৫৩টি আসন, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) পেয়েছে চারটি আসন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জয়ী হয়েছেন ছয়জন। এছাড়া অন্যান্য দলের অন্তত আটজন প্রার্থীও বিজয়ী হয়েছেন। জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে সরকার গঠনে প্রয়োজন ১৫১টি আসন; সে হিসাবে বিএনপি স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। সর্বশেষ ২০০১ সালের নির্বাচনে জয়লাভ করে সরকার গঠন করেছিল দলটি; তখনও এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও চারদলীয় জোটের নেতৃত্বে সরকার গঠন করা হয় এবং ধানের শীষ প্রতীক পেয়েছিল ১৯৫টি আসন। ইসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দ্রুত গেজেট প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে যাতে নির্বাচিত সদস্যরা শপথ নিয়ে সংসদ অধিবেশন শুরু করতে পারেন। ফল প্রকাশে কিছুটা বিলম্বের কারণ হিসেবে টানা ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালনের পর মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের বিশ্রামে যাওয়া এবং বার্তাশিট পাঠাতে দেরির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ২৯৯টি আসনে ভোটগ্রহণ হয়; শেরপুর-৩ আসনে এক প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে সেখানে ভোট স্থগিত রয়েছে এবং নতুন তফসিল ঘোষণা করা হবে। ঘোষিত ফল অনুযায়ী, তারেক রহমান ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬ আসনে জয় পেয়েছেন। জামায়াতের আমির নির্বাচিত হয়েছেন ঢাকা-১৫ আসনে এবং এনসিপির প্রধান নাহিদ ইসলাম জয়ী হয়েছেন ঢাকা-১১ আসনে। নির্বাচনে ৬০টি নিবন্ধিত দলের মধ্যে ৫০টি দল অংশ নেয়; মোট প্রার্থী ছিলেন এক হাজার ৭৫৫ জন দলীয় এবং ২৭৩ জন স্বতন্ত্র। নারী প্রার্থী ছিলেন ৮৩ জন, যার মধ্যে ৬৩ জন দলীয় ও ২০ জন স্বতন্ত্র; পুরুষ প্রার্থী ছিলেন এক হাজার ৯৪৬ জন। সবচেয়ে বেশি প্রার্থী দেয় বিএনপি—২৯০ জন; জামায়াত ২২৭, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ২৫৭, জাতীয় পার্টি ২০০, এনসিপি ৩২ এবং গণঅধিকার পরিষদ ৯৪ জন প্রার্থী দেয়। দেশে মোট ভোটার ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন; এর মধ্যে নারী ছয় কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০, পুরুষ ছয় কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ এবং তৃতীয় লিঙ্গের এক হাজার ২৩২ জন। শেরপুর-৩ আসনের ভোটার বাদে ২৯৯ আসনে ভোটাধিকার পেয়েছেন ১২ কোটি ৭২ লাখ ৯৮ হাজার ৪৫৬ জন। পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে নিবন্ধন করেন মোট ১৫ লাখ ২৮ হাজার ১৩১ জন; এর মধ্যে ভোট দিয়েছেন ১২ লাখ ২৪ হাজার ১৮৮ জন, যা ৮০ দশমিক ১১ শতাংশ। এ ভোটের প্রায় ১০ শতাংশ বাতিল হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। সার্বিক ভোটের হার জানাতে আরও সময় লাগবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ভোটের আগে জাতির উদ্দেশে ভাষণে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন জয়-পরাজয় মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান; তবে ভোট প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ উঠলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারিও এসেছে জামায়াতের পক্ষ থেকে।

আপনার মতামত লিখুন :