ঢাকা রবিবার, ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

টেকনাফে মিথ্যা মামলা দিয়ে নিরীহ নুর বসরকে ফাঁসানোর অভিযোগে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী

সালাহ উদ্দিন আহমেদ, কক্সবাজার প্রতিনিধিঃ

প্রকাশিত: ২৫ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৭:৫৮ বিকাল

ছবি: সংগৃহীত

টেকনাফ পৌরসভায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যা ও সাজানো মামলার মাধ্যমে এক নিরীহ যুবককে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে রোহিঙ্গা নারী ফেরদৌস আক্তারের বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ব্যক্তিগত স্বার্থের জের ধরে নুর বসরকে পরিকল্পিতভাবে মামলায় জড়িয়ে তার জীবন ধ্বংসের অপচেষ্টা চালানো হয়েছে। মামলা সূত্রে জানা যায়, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল–৩, কক্সবাজার জেলা জজ আদালতে মামলাটি দায়ের করা হয়। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, কোনো ধরনের অপরাধে জড়িত না থাকা সত্ত্বেও নুর বসরের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এর ফলে নুর বসরের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, সামাজিক মর্যাদা এবং মৌলিক মানবাধিকার চরমভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে। পরিবারটির দাবি, এটি শুধু একজন ব্যক্তিকে হয়রানি নয়—বরং বিচারব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার একটি ভয়ংকর দৃষ্টান্ত। ভুক্তভোগী নুর বসর জানান, “আমাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা ও সাজানো মামলায় ফাঁসিয়ে দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে হয়রানি ও মানহানি করা হচ্ছে।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত ফেরদৌস আক্তারের বিরুদ্ধে এর আগেও টেকনাফ সদর ইউনিয়নের নতুন পল্লান পাড়া এলাকার এক বৃদ্ধ মুরব্বি ও এক যুবদল নেতাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নতুন পল্লান পাড়া এলাকায় বিভিন্ন মানুষের বিরুদ্ধে ছয়টিরও বেশি মিথ্যা ও সাজানো মামলা দিয়ে হয়রানি চালিয়ে যাচ্ছেন ওই নারী। এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি একজন রোহিঙ্গা এবং বর্তমানে কে কে পাড়ায় ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন। তার কর্মকাণ্ডে সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। আইনজ্ঞদের মতে, দণ্ডবিধি অনুযায়ী মিথ্যা মামলা দায়ের একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ইচ্ছাকৃতভাবে নিরীহ ব্যক্তিকে ফাঁসানো ন্যায়বিচারের পরিপন্থী এবং আইনের শাসনের ওপর সরাসরি আঘাত। সংবিধানে নিশ্চিত করা নাগরিকের ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার এ ধরনের মামলাবাজির মাধ্যমে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে। স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, ফেরদৌস আক্তারের বিরুদ্ধে পূর্বেও হয়রানিমূলক মামলার অভিযোগ শোনা গেছে। তাদের দাবি, কিছু স্বার্থান্বেষী মহল মিথ্যা মামলা দিয়ে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে ভয়ভীতি প্রদর্শনের একটি বিপজ্জনক সংস্কৃতি গড়ে তুলছে, যা সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে। নুর বসরের পরিবার প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানিয়েছে—অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করে মিথ্যা অভিযোগকারীর বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় সাধারণ মানুষের আইনের ওপর আস্থা নষ্ট হয়ে যাবে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন। এ বিষয়ে অভিযুক্ত ফেরদৌস আক্তারের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি প্রতিবেদককে বলেন, “তুমি কিসের সাংবাদিক—আমার বক্তব্য নেওয়ার কোনো দরকার নেই।” মামলার একজন সাক্ষী শাহানু জানান, “আমি ওই মহিলাকে চিনিও না। কীভাবে আমাকে মিথ্যা মামলায় সাক্ষী করা হয়েছে, তা আমি জানি না। আমি নুর বসরের বিরুদ্ধে দায়ের করা এই মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি।” আরেক সাক্ষী কহিনুর জানান, “ফেরদৌস আক্তার নামের ওই মহিলাকে আমি চিনি না। তবুও আমাকে নুর বসরের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় সাক্ষী হিসেবে দেখানো হয়েছে। মামলাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও সাজানো।” মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, মিথ্যা মামলার অপব্যবহার বন্ধ না হলে নিরীহ মানুষ ক্রমাগত হয়রানির শিকার হবে এবং সমাজে ন্যায়বিচারের পরিবর্তে ভয় ও অনিশ্চয়তা প্রাধান্য পাবে—যা কোনো সভ্য রাষ্ট্রের জন্য অশনিসংকেত।

Link copied!