ঢাকা রবিবার, ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

তীব্র উত্তেজনার মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় অগ্রগতির ইঙ্গিত ইরানের

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ০১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:১১ দুপুর

ছবি: সংগৃহীত

চরম উত্তেজনার মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য আলোচনার পথে অগ্রগতি হচ্ছে বলে জানিয়েছে ইরান। দেশটির সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান আলী লারিজানি এ বিষয়ে ইঙ্গিত দিয়েছেন। শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, চলমান উত্তেজনা ও যুদ্ধের আশঙ্কার বিপরীতে আলোচনার কাঠামো তৈরির প্রক্রিয়া ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছে।

লারিজানি তার পোস্টে উল্লেখ করেন, গণমাধ্যমে তৈরি হওয়া ‘যুদ্ধ পরিস্থিতির’ ধারণার বাইরে বাস্তবতা ভিন্ন। তবে আলোচনার সম্ভাব্য কাঠামো বা সময়সূচি নিয়ে তিনি কোনো বিস্তারিত তথ্য দেননি।

অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, সামরিক সংঘাত এড়াতে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতায় যেতে আগ্রহী। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরান আলোচনায় বসছে এবং যুক্তরাষ্ট্র পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। তিনি আরও জানান, আলোচনায় অগ্রগতি না হলে যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত রয়েছে।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি, বিক্ষোভ দমন এবং দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার চাপ ঘিরে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় যুক্তরাষ্ট্র ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন বিমানবাহী রণতরীর নেতৃত্বে একটি নৌবহর মধ্যপ্রাচ্যের দিকে পাঠিয়েছে, যা সম্ভাব্য সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা আরও বাড়িয়েছে।

ইরানের শীর্ষ নেতারা জানিয়েছেন, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করতে আগ্রহী হলেও সামরিক হামলার হুমকি অব্যাহত থাকলে আলোচনা সম্ভব নয়। এর আগে ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, ইরান আলোচনায় না এলে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবহর প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগে প্রস্তুত থাকবে।

পরিস্থিতি এখনও নাজুক

তেহরান থেকে আল জাজিরার সাংবাদিক তোহিদ আসাদি জানান, বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল। তার মতে, লারিজানির বক্তব্যকে আলোচনার পথে একটি ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। সম্ভাব্য সংঘাত এড়াতে ইরান সাম্প্রতিক সময়ে মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে ধারাবাহিক কূটনৈতিক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

হরমুজ প্রণালী ঘিরে সতর্কতা

এদিকে, হরমুজ প্রণালীতে ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) নৌমহড়া পরিকল্পনা নিয়ে সতর্কতা জারি করেছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। সংস্থাটি জানায়, এ ধরনের মহড়া বা অপেশাদার সামরিক আচরণ আঞ্চলিক উত্তেজনা ও সংঘাতের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, ইরানের নিজস্ব জলসীমায় কীভাবে সামরিক মহড়া পরিচালিত হবে, সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নির্দেশ দেওয়ার কোনো অধিকার নেই। তিনি আরও বলেন, যে যুক্তরাষ্ট্র একসময় আইআরজিসিকে সন্ত্রাসী সংগঠন ঘোষণা করেছিল, তারাই এখন সেই বাহিনীর মহড়া নিয়ে ‘পেশাদারিত্বের’ প্রশ্ন তুলছে—যা দ্বিচারিতার উদাহরণ।

উল্লেখ্য, ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র আইআরজিসিকে আনুষ্ঠানিকভাবে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করে। আরাগচি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে বাইরের শক্তির সামরিক উপস্থিতি বরাবরই উত্তেজনা কমানোর বদলে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।

 

Link copied!