ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

বিয়ের পর কেন বাড়ে ওজন, জানুন আসল কারণগুলো

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩০ জানুয়ারী, ২০২৬, ১০:২৮ দুপুর

ছবি: সংগৃহীত

বিয়ের কিছুদিন পর অনেকেই হঠাৎ টের পান শরীরের গড়ন বদলে যাচ্ছে। আগের পোশাক আর ঠিকমতো মানায় না, ওজন ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। এই অভিজ্ঞতা শুধু নারীদের নয়, পুরুষদের ক্ষেত্রেও সমানভাবে দেখা যায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিয়ের পর ওজন বাড়ার পেছনে শুধু বেশি খাওয়া দায়ী নয়। জীবনযাপনের ধরন বদলে যাওয়া, শারীরিক পরিশ্রম কমে যাওয়া, হরমোনের পরিবর্তন এবং সামাজিক অভ্যাস—সব মিলিয়েই এই সমস্যার সৃষ্টি হয়।

বিয়ের আগে অনেকেই নিয়মিত হাঁটা, ব্যায়াম বা সক্রিয় দৈনন্দিন জীবনে অভ্যস্ত থাকেন। কিন্তু বিয়ের পর সংসারের দায়িত্ব, অফিসের চাপ ও পারিবারিক ব্যস্ততার কারণে শরীরচর্চার সময় কমে যায়। এতে শরীরে অতিরিক্ত ক্যালরি জমতে শুরু করে।

দাম্পত্য জীবনে একসঙ্গে খাবার খাওয়ার অভ্যাস তৈরি হয়, যা স্বাভাবিকভাবেই খাবারের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। বাইরে খাওয়া, ভাজাপোড়া, মিষ্টি ও রেস্তোরাঁর খাবারের প্রতি ঝোঁকও বাড়ে। অনেক সময় রাতে দেরিতে খাওয়া বা অনিয়মিত স্ন্যাকস গ্রহণ ওজন বৃদ্ধিকে আরও ত্বরান্বিত করে।

বিয়ের পরপরই আত্মীয়স্বজনের দাওয়াত, অতিথি আপ্যায়ন এবং সামাজিক অনুষ্ঠান বাড়তে থাকে। এসব আয়োজনে সাধারণত উচ্চ ক্যালরিযুক্ত খাবার পরিবেশন করা হয়, যা অজান্তেই অতিরিক্ত ওজন বাড়িয়ে দেয়।

নতুন দাম্পত্য জীবনে মানসিক নিরাপত্তা ও স্বস্তি তৈরি হলে অনেকেই আরামপ্রিয় হয়ে পড়েন। আনন্দ, ভালোবাসা বা মানসিক তৃপ্তির সঙ্গে খাবারকে জুড়ে দেওয়ার প্রবণতাকে ‘কমফোর্ট ইটিং’ বলা হয়। এই অভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে ওজন বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।

নারীদের ক্ষেত্রে বিয়ের পর হরমোনের পরিবর্তন তুলনামূলক বেশি দেখা যায়, বিশেষ করে গর্ভধারণ ও সন্তান জন্মদানের সময়। গর্ভাবস্থায় ওজন বাড়া স্বাভাবিক হলেও প্রসবের পর সেই ওজন কমানো অনেকের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। পুরুষদের ক্ষেত্রেও বয়স, মানসিক চাপ ও কর্মজীবনের কারণে বিপাকক্রিয়া ধীর হয়ে যেতে পারে।

এ ছাড়া বিয়ের পর ঘুমের সময়সূচিতেও পরিবর্তন আসে। পর্যাপ্ত ও মানসম্মত ঘুম না হলে ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণকারী হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়। ফলে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা তৈরি হয় এবং ওজন বাড়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বিয়ের পর ওজন বৃদ্ধি স্বাভাবিক বিষয় হলেও সচেতন জীবনযাপন ও কিছু ছোট পরিবর্তনের মাধ্যমে এটি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। নিয়মিত শারীরিক কার্যকলাপ, সুষম খাদ্যাভ্যাস এবং পর্যাপ্ত ঘুম বজায় রাখলে ওজন বাড়ার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো যায়।

Link copied!