ঢাকা বুধবার, ২৭ মে ২০২৬

পাহাড়ে হামের ভয়াবহতা, শিশু মৃত্যুর ঘটনায় বাড়ছে আতঙ্ক

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৬ মে, ২০২৬, ০৫:৪৮ বিকাল

ছবি: সংগৃহীত

দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মতো এবার পার্বত্য এলাকাতেও ভয়াবহ আকার নিয়েছে হাম। বান্দরবানের আলীকদম ও লামার দুর্গম পাহাড়ি জনপদে একের পর এক শিশু মৃত্যুর ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে। স্বাস্থ্য বিভাগ পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে দাবি করলেও পাহাড়ি পাড়াগুলোতে এখনও আতঙ্ক কাটেনি।

স্থানীয় সূত্র বলছে, শিশুদের মধ্যে জ্বর, শরীরে লালচে দানা, কাশি ও দুর্বলতার উপসর্গ নিয়ে নতুন রোগী শনাক্ত হচ্ছে প্রায় প্রতিদিনই। দুর্গম এলাকায় চিকিৎসাসেবার সীমাবদ্ধতা এবং সচেতনতার অভাবে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।

বর্তমানে আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হামের উপসর্গ নিয়ে অর্ধশতাধিক রোগী ভর্তি রয়েছেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিশু। অন্যদিকে লামাতেও একাধিক শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। স্থানীয় সংগঠনগুলোর দাবি, প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা সরকারি হিসাবের চেয়েও বেশি। কারণ অনেক রোগী এখনও দুর্গম পাহাড়ি পাড়াগুলোতে চিকিৎসাবিহীন অবস্থায় পড়ে আছেন।

রূপসী ইউনিয়নের ছলম পাড়ায় সম্প্রতি একই পরিবারের দুই শিশুর মৃত্যু স্থানীয়দের মধ্যে গভীর শোক ও আতঙ্ক তৈরি করেছে। প্রথমে জ্বরে আক্রান্ত হয় সাত বছরের এক শিশু। পরে শরীরে দানা দেখা দিলে পরিবারটি স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নেওয়ার চেষ্টা করে। কয়েকদিনের ব্যবধানে একই উপসর্গ দেখা দেয় তার ছোট ভাইয়ের শরীরেও। পরে তাদের হাসপাতালে নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত দুজনকেই বাঁচানো যায়নি।

স্থানীয়দের ভাষ্য, দুর্গম পাহাড়ি পথ এবং হাসপাতালে পৌঁছাতে দীর্ঘ সময় লাগার কারণে অনেক পরিবার প্রথমে ঘরোয়া চিকিৎসার ওপর নির্ভর করে। কেউ কেউ এখনও মনে করেন, হাম স্বাভাবিকভাবেই সেরে যায়। ফলে রোগ গুরুতর হওয়ার আগ পর্যন্ত হাসপাতালে নেওয়া হয় না।

কুরুকপাতা ইউনিয়নের আরেকটি ঘটনায় ১১ মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে চট্টগ্রামে চিকিৎসাধীন অবস্থায়। কয়েকদিন জ্বর ও শরীরে দানা ওঠার পর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামে পাঠানো হয়। সেখানে এক সপ্তাহ মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে শিশুটি মারা যায়।

স্থানীয় সামাজিক সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল থেকে মে মাস পর্যন্ত হামের উপসর্গ ও সংশ্লিষ্ট জটিলতায় অন্তত ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের বেশিরভাগই শিশু। তবে স্থানীয়দের দাবি, দুর্গম অঞ্চলের অনেক মৃত্যুর তথ্য এখনও আনুষ্ঠানিক তালিকায় আসেনি।

এদিকে স্বাস্থ্যকর্মীরা বলছেন, আক্রান্তদের দ্রুত শনাক্ত করা এবং টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে যোগাযোগব্যবস্থা দুর্বল হওয়ায় অনেক এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছাতে সময় লাগছে।

স্থানীয় সংগঠনগুলোর মতে, শুধু চিকিৎসা নয়, কুসংস্কার দূর করে মানুষকে সচেতন করাও জরুরি। তারা বলছেন, পাহাড়ি জনগোষ্ঠীকে দ্রুত টিকার আওতায় না আনতে পারলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।

 

Link copied!