রাজধানীর পল্লবীর কালশী বস্তিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে শতাধিক পরিবার সব হারিয়ে এখন খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে। ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে যখন সারা দেশে উৎসবের প্রস্তুতি চলছে, তখন কালশী বস্তির বাসিন্দাদের জীবনে নেমে এসেছে হতাশা আর অনিশ্চয়তা।
সাত বছর ধরে বস্তিটিতে বসবাস করা বকুলা বেগম আগুনে নিজের সবকিছু হারিয়েছেন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, বিধবা ভাতার জমানো টাকাও আগুনে পুড়ে গেছে। জীবন বাঁচাতে এক কাপড়ে ঘর থেকে বের হতে হয়েছে। প্রতি ঈদে অন্যের বাসা থেকে পাওয়া কোরবানির মাংস দিয়ে কয়েকদিন ভালোভাবে খেতে পারলেও এবার সেই সুযোগও নেই। তার ভাষায়, “আমাগো ঈদ এইবার খোলা আসমানের নিচে।”
মঙ্গলবার দুপুরে বস্তিতে গিয়ে দেখা যায়, আগুনে পোড়া ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে মানুষজন তাদের অবশিষ্ট জিনিসপত্র খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন। কোথাও ছড়িয়ে আছে পোড়া টিন, কাঠ, কাপড় ও ভাঙাচোরা আসবাব। অনেকে পোড়া মালামাল কুড়িয়ে ভাঙারির দোকানে বিক্রি করছেন, যেন অন্তত কিছু টাকা জোগাড় করা যায়।
ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দা মো. নবাব জানান, আগুনে তার ১৫টি ঘর ও একটি মুদি দোকান পুড়ে গেছে। দীর্ঘ ২০ বছরের উপার্জন এক মুহূর্তে শেষ হয়ে গেছে বলে জানান তিনি। দোকানে কয়েক লাখ টাকার মালামাল ছিল, যার কিছুই রক্ষা করা যায়নি। প্রতি বছর কোরবানি দিলেও এবার থাকার জায়গা না থাকায় ঈদ উদযাপনের কোনো সুযোগ দেখছেন না তিনি।
আমেনা বেগম নামে আরেক নারী জানান, মাগরিবের আজানের সময় বাসায় যাওয়ার পর ছোট ছেলের ফোনে দোকানে আগুন লাগার খবর পান। ফিরে এসে দেখেন, দোকানসহ সব পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। একইভাবে লাল মিয়া নামে এক দোকানি দাবি করেন, তার প্লাস্টিকের দোকানে প্রায় ৫০ লাখ টাকার মালামাল ছিল, যা আগুনে সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘটনার আগে বস্তির এক দোকানির সঙ্গে এক যুবকের ঝগড়া হয়েছিল। ওই যুবক অগ্নিকাণ্ডের হুমকিও দিয়েছিল বলে দাবি তাদের। পরে আগুন লাগার পর স্থানীয়রা তাকে আটক করে মারধর শেষে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।
এ বিষয়ে পল্লবী থানা-র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাসান বাসির জানান, আটক ব্যক্তি আগুন দেওয়ার কথা স্বীকার না করলেও কিছু আলামতের ভিত্তিতে পুলিশের ধারণা, ওই যুবকই আগুনের সঙ্গে জড়িত। এ ঘটনায় মামলা করা হচ্ছে এবং তাকে গ্রেফতার দেখানো হবে।
সোমবার সন্ধ্যায় লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের ১৫টি ইউনিট প্রায় দুই ঘণ্টা কাজ করে। পরে রাত সাড়ে ৩টার দিকে আগুন পুরোপুরি নির্বাপণ করা হয়। অগ্নিকাণ্ডে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

আপনার মতামত লিখুন :