ঢাকা বুধবার, ২৭ মে ২০২৬
থামছে না ঘরমুখো মানুষের ঢল

ঈদযাত্রায় ট্রেনের ছাদে জীবনের ঝুঁকি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৬ মে, ২০২৬, ০৫:৩৫ বিকাল

ছবি: সংগৃহীত

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশনে ঘরমুখো মানুষের ব্যাপক চাপ তৈরি হয়েছে। অতিরিক্ত যাত্রীর ভিড়ে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে শত শত মানুষ ট্রেনের ছাদে চড়ে বাড়ির পথে রওনা হচ্ছেন। ঝুঁকিপূর্ণ এই যাত্রা ঠেকাতে রেলওয়ের কড়াকড়ি থাকলেও বাস্তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে।

মঙ্গলবার দুপুর থেকে কমলাপুর স্টেশনের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। ট্রেন স্টেশনে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই যাত্রীদের মধ্যে ওঠার প্রতিযোগিতা শুরু হয়। টিকিটধারীদের পাশাপাশি অনেক টিকিটবিহীন যাত্রীও যে কোনোভাবে ট্রেনে ওঠার চেষ্টা করেন। ভেতরে জায়গা না পেয়ে অনেকে বগির সংযোগস্থল, দরজা এমনকি ট্রেনের ছাদেও উঠে বসেন।

বিশেষ করে উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলগামী আন্তঃনগর ট্রেনগুলোতে এই চিত্র ছিল সবচেয়ে বেশি। খুলনাগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেসসহ কয়েকটি ট্রেনের ছাদে যাত্রীদের ভিড় এতটাই ছিল যে সেখানে দাঁড়ানোর জায়গাও পাওয়া যাচ্ছিল না। নারী, পুরুষ ও শিশু—সব বয়সী মানুষকে ব্যাগপত্র নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে ছাদে অবস্থান নিতে দেখা গেছে।

স্টেশনে দায়িত্ব পালনকারী রেলওয়ে পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মীরা যাত্রীদের ছাদে ওঠা ঠেকানোর চেষ্টা করলেও অনেকেই বাধা উপেক্ষা করে ট্রেনের ওপরে উঠে পড়েন। মাইকিং করে বারবার সতর্ক করা হলেও তাতে খুব একটা কাজ হয়নি।

বাড়ি ফেরা এক যাত্রী জানান, ট্রেনের ভেতরে এত বেশি ভিড় যে দাঁড়িয়ে থাকাও কঠিন। পরিবারের সঙ্গে ঈদ করতে বাড়ি যেতেই হবে, তাই বাধ্য হয়েই ছাদে উঠেছেন তিনি।

রেলওয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, ঈদের সময় অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালালেও যাত্রীদের অসচেতনতা এবং বাড়ি ফেরার তাড়নার কারণে ঝুঁকিপূর্ণ ভ্রমণ বন্ধ করা যাচ্ছে না। তাদের মতে, শুধু আইন প্রয়োগ নয়, যাত্রীদের মধ্যেও সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।

প্রতি বছর ঈদ মৌসুমে ট্রেনের ছাদে ভ্রমণের কারণে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটলেও বাস্তব চিত্রে খুব একটা পরিবর্তন আসেনি। এবারও একই ঝুঁকি নিয়ে বহু মানুষ বাড়ির পথে রওনা হয়েছেন।

 

Link copied!