ঢাকা বুধবার, ২৭ মে ২০২৬

ঈদযাত্রায় ট্রেনে উপচে পড়া ভিড়, ঝুঁকি নিয়েই বাড়ির পথে মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৬ মে, ২০২৬, ০২:৫০ দুপুর

সংগৃহীত

ঈদুল আজহা সামনে রেখে রাজধানী ছাড়তে শুরু করেছেন ঘরমুখো মানুষ। তবে ট্রেনে যাত্রীর অতিরিক্ত চাপ, টিকিট সংকট ও আসন স্বল্পতায় অনেককেই ঝুঁকি নিয়ে বাড়ির পথে রওনা হতে দেখা গেছে। কেউ বগির দরজায় ঝুলছেন, কেউ আবার ট্রেনের ছাদে বসে গন্তব্যের উদ্দেশে যাত্রা করছেন।

মঙ্গলবার (২৬ মে) ঈদযাত্রার চতুর্থ দিনে রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, সকাল থেকে বিভিন্ন আন্তনগর ট্রেনে যাত্রীদের ব্যাপক ভিড়। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গগামী ট্রেনগুলোতে যাত্রীর চাপ ছিল চোখে পড়ার মতো।

রাজশাহীগামী বনলতা এক্সপ্রেসে উঠেছিলেন সিরাজগঞ্জগামী সবুজ মণ্ডল। পরিবারের সঙ্গে ঈদ কাটাতে যাচ্ছেন তিনি। কিন্তু টিকিট না পেয়ে বাধ্য হয়ে দাঁড়িয়ে যাওয়ার টিকিট নিয়ে শেষ পর্যন্ত ট্রেনের দরজার কাছেই জায়গা করে নিতে হয়েছে তাঁকে।

সবুজ বলেন, বছরে কেবল ঈদের সময়ই কয়েক দিনের ছুটি মেলে। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ হাতছাড়া করতে চান না তিনি। তাই কষ্ট হলেও বাড়ি ফিরতেই হচ্ছে।

তিনি জানান, অনলাইনে বহু চেষ্টা করেও টিকিট পাননি। পরে বিকল্প হিসেবে স্ট্যান্ডিং টিকিট নেন। কিন্তু স্টেশনে এসে অতিরিক্ত ভিড় দেখে ঝুঁকি নিয়েই ট্রেনে উঠতে বাধ্য হয়েছেন।

একই চিত্র দেখা যায় টাঙ্গাইলগামী যাত্রী মোহন ভট্টাচার্যের ক্ষেত্রেও। নড়াইলে কর্মরত এই শ্রমজীবী মানুষটি ঈদের ছুটিতে পরিবারের কাছে ফিরছেন। ট্রেনে অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে তাঁকে দরজার পাশে ঝুলে যাত্রা করতে দেখা যায়।

মোহনের ভাষায়, পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করার জন্য কষ্ট সহ্য করা ছাড়া উপায় নেই। যেভাবেই হোক বাড়ি ফিরতেই হবে।

সকাল থেকে কমলাপুর স্টেশন ছাড়ার সময় নীলসাগর এক্সপ্রেস, একতা এক্সপ্রেসসহ কয়েকটি আন্তনগর ট্রেনের ছাদেও অতিরিক্ত যাত্রী দেখা যায়। অনেকেই ভেতরে জায়গা না পেয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ছাদে অবস্থান নেন।

দুপুরে কমলাপুর স্টেশন পরিদর্শনে এসে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেন বলেন, অধিকাংশ ট্রেন নির্ধারিত সময়েই ছেড়ে গেছে এবং বড় ধরনের কোনো বিঘ্ন ঘটেনি।

ট্রেনের ছাদে যাত্রী ওঠার বিষয়ে তিনি জানান, এটি আইনত দণ্ডনীয়। রেল কর্তৃপক্ষ বারবার নিরুৎসাহিত করলেও যাত্রীর অতিরিক্ত চাপের কারণে অনেকেই ঝুঁকি নিয়ে ছাদে ওঠেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে কখনো কখনো ট্রেন ছাড়তেও বিলম্বের আশঙ্কা থাকে।

তিনি আরও বলেন, ঈদ মৌসুমে যাত্রীর চাহিদার তুলনায় ট্রেনের সংখ্যা এখনো অপর্যাপ্ত। এ কারণে ভবিষ্যতে অতিরিক্ত ট্রেন সংযোজন ও নতুন কোচ সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

 

Link copied!