28 C
dhaka
মঙ্গলবার, ১৫ই জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১লা আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | দুপুর ১:২৪
দৈনিক পরিবর্তন সংবাদ

গতানুগতিক নয়, চ্যালেঞ্জিং ও ভিন্নধারার বাজেট প্রনয়ণ চাই

মোহাম্মদ মাশরূর হোসাইন:

২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেট তৈরির কাজ প্রায় শেষের দিকে। সেইসাথে আর্থিক, মুদ্রা ও মুদ্রা বিনিময় হার সংক্রান্ত যে কো-অর্ডিনেশন কাউন্সিলের সভা হয় তাও ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়ে গিয়েছেল। সেই সভায় সিঙ্গাপুর থেকে ভার্চুয়াল প্লাটফর্ম-এ সভাপতিত্ব করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। ধারনা করতে পারছি যে এবারের বাজেট একটু ভিন্ন হতে পারে বলে মনে হচ্ছে৷ এই ভয়াবহ করোনা মহামারির কারনে যদি বাজেটে কিছুটা গঠনমূলক পরিবর্তন আনা না হয় তবে তা আমাদের অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে৷ কারন দিনকে দিন মানুষের মৌলিক চাহিদা বাড়ছে৷ কিন্তু এই মহামারীতে বিপর্যস্ত বৈশ্বিক অর্থনীতির অচল চাকা সচল করে চাহিদার যোগান দেওয়াটা এখন অনেক বড় একটা চ্যালেঞ্জের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে৷ সেক্ষেত্র বিবেচনা করে সরকারকে জনগনের চাহিদার কথা চিন্তা করে আয়ের বিভিন্ন বিকল্প উৎস তৈরী করতে হবে৷ মানুষের সমসাময়িক চাহিদার বিষয়টি মাথায় রেখে আয়ের বিকল্প পথগুলো কি কি হতে পারে তা এনালাইসিস করে বের করে আইডেন্টিফাই করতে হবে৷

তথ্যসূত্র মতে জানা গেছে, ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের আকার হতে পারে আনুমানিক ৫ লাখ ৯৩ হাজার ৩১৩ কোটি টাকা। যা চলতি অর্থবছরের তুলনায় ২৫ হাজার ৩১৩ কোটি টাকা বেশি। প্রস্তাবিত নতুন বাজেটে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে ৩ লাখ ৮৩ হাজার ৭০০ কোটি টাকা৷

তবে আমি মনে করি সরকারকে এবারের বাজেটে স্বাস্থ্য খাতের উপর বিশেষ নজর দিতে হবে৷ দেশের সকল সরকারি হাসপাতালে সেন্ট্রাল অক্সিজেন প্লান্ট বসানো প্রয়োজন৷ প্রতিটি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে নূন্যতম ১ টি আইসিউ বেডের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা দরকার৷ সরকারি হাসপাতালের অকেজো এম্বুলেন্সগুলো নিলামে বিক্রি করে অত্যাধুনিক আইসিইউ এম্বুল্যান্স ও সাধারন এম্বুলেন্স ক্রয় করা অত্যাবশ্যক৷ অনেক হাসপাতালে দেখা যায় যে, চিকিৎসা সরঞ্জামাদি ও যন্ত্রপাতি অকেজো হয়ে পরে আছে৷ এসবের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে৷ করোনা মহামারীতে ডাক্তারদের পাশাপাশি নার্স, আয়া, ওয়ার্ড বয় এরাও সমান সম্মুখ যোদ্ধা৷ গভীরভাবে খেয়াল করলে দেখা যায় ডাক্তারদের চেয়েও তাদের রোগীদের প্রতি সেবাশুশ্রূষার কোন কমতি থাকে না৷ তাই উনাদের জন্যে আলাদা প্রনোদনা ও কিছু অতিরিক্ত সুযোগ সুবিধার ব্যবস্থা করতে হবে থোক বরাদ্দ দেওয়া উচিত৷

এবার আসি ই-কমার্স ভিত্তিক ব্যবসায় বানিজ্যের ক্ষেত্রে৷ যেহেতু এই মহামারীতে ফিজিক্যাল মুভমেন্ট হ্রাস পেয়েছে তাই ছোট বড় সব দোকানিরাই কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে৷ আবার অপরদিকে অনলাইনে একটা ভালো মার্কেট জমে উঠেছে৷ এই অনলাইন প্লাটফর্মের কারনে কিন্তু বিকল্প আয়ের একটা ব্যবস্থা ও সুযোগ তৈরী হয়েছে৷ আগে যেখানে মা বোনেরা গৃহস্থালি কাজেই জীবন পার করতো এখন কিন্তু তারা টুকটাক কিছু না কিছু করে সংসারের প্রয়োজন মিটাতে পারছেন৷ নিঃসন্দেহে এটি একটি যুগান্তকারী প্রচেস্টা বলে আমি মনে করি৷ কিন্তু দুঃক্ষের বিষয় অনলাইন কেনাকাটায় প্রতারণারও অনেক অভিযোগ রয়েছে৷ এসমস্ত প্রতারকদের কারনে সৎ এবং নিষ্ঠাবান উদ্যোক্তারা হতাশ হয়ে যাচ্ছেন এবং যারা ক্রেতা তারাও অনলাইন ট্রেডের উপর বিশ্বাস হারিয়ে ফেলছেন৷ তাই অনালাইনে বানিজ্যের ক্ষেত্রে একটা পদক্ষেপ নেয়া দরকার৷ যেমন, যারা অনলাইনের বিক্রেতা তাদের ট্রেড লাইসেন্সে, আয়কর এবং ভ্যাটের আওতায় আনতে হবে৷ তাদের অনলাইন শপের নামে ব্যাংক একাউন্টও করতে হবে৷ এতে করে সরকারের রাজস্ব যেমন বাড়বে ঠিক তেমনি অনলাইন কেনাকাটায় প্রতারিত হওয়ার সম্ভাবনাও কমে যাবে৷ সেই সাথে উনারা যেকোন সময় ব্যাংক ঋন সহ যাবতীয় সুযোগ সুবিধাও ভোগ করতে পারবেন৷

আমার আরেকটি ভাবনা হল পথশিশু, ভিক্ষুক, এবং ভবঘুরেদের পূনর্বাসনের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন৷ তাই এই দিকে সরকারের নজর এনে আলাদা বরাদ্দ দরকার৷ আপনারা জানেন পথশিশুরা বেশিরভাগ মাদকাসক্ত৷ তাদের পুনর্বাসন করে লেখাপড়া নিশ্চিত করতে হবে৷ সেই সাথে কারিগরি প্রশিক্ষন দেয়া প্রয়োজন বলে আমি মনে করি৷ এতে তারা আত্মনির্ভরশীল হয়ে উঠতে পারবে৷ আমাদের দেশের আরেকটি মহা সমস্যা ভিক্ষুক৷ সুস্থ সবল ভিক্ষুকদের তাদের সাধ্যমত কাজ শিখার ব্যবস্থা করাতে হবে এবং তাদের কাজে বাধ্য করতে হবে৷ সেই সাথে প্রতিবন্ধী ও বয়স্ক ভিক্ষুকদের ভিক্ষাবৃত্তিতে নিরুৎসাহিত করে তাদের জন্যে আলাদা শেল্টার হোম তৈরী করে সরকারী খরচে লালন পালনের ব্যবস্থা করতে হবে৷ আমি মনে করি এভাবে দেশকে ভিক্ষুকমুক্ত করা যাবে৷ ভবঘুরে এবং মাদকাসক্তদের আশ্রয়কেন্দ্রে রেখে সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে তাদের নতুন জীবনে ফিরিয়ে আনার দায়িত্ব নিতে হবে৷ তাই এক্ষেত্রে একটা বড় অংকের বরাদ্দের প্রয়োজন৷

খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় যেটা আমার কাছে মন হয়েছে তা হলো সারাদেশে হাজার হাজার একর সরকারী খাস জমি আছে যা বেদখল কিংবা পরিত্যক্ত৷ এই সব জমি থেকেও সরকারের আয়ের উৎস বের করতে পারে৷ যেমন এসব জমি লিজ দেয়া যেতে পারে৷ মার্কেট বা এপার্টমেন্ট বানানো যেতে পারে৷ সরকারি মিল কারখানা তৈরি করতে পারে৷ এতে করে পরিত্যক্ত জায়গার একটা দিকও হলো আবার সরকার বিপুল পরিমান অর্থও পেলো৷ সেই সাথে বন্ধ হয়ে যাওয়া সরকারী বিভিন্ন কলকারখানা চালু করার ব্যবস্থা করতে পারে অথবা তা বেসরকারিভাবে দিয়ে নতুন আয়ের উৎস করতে পারে৷

আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে খুব গভীরভাবে ভাবতে হবে৷ আমাদের ছেলেমেয়েরা পাশ করে বের হয়ে সার্টিফিকেট নিয়ে চাকরির জন্য ঘুরে৷ কিন্তু চাকরীতো সোনার হরিণ৷ তাই আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার চেয়েও কারিগরি শিক্ষার উপর বিশেষ জোড় দিতে হবে৷ এতে করে বেকারত্ব কমে যাবে৷ চায়নার মত ঘরে ঘরে ছোট ছোট ফ্যাক্টরি হয়ে যাবে এবং প্রযুক্তি খাতে আমাদের উন্নতি আসবে৷ তখন আর আমাদের ছেলেদের চাকুরীর জন্যে কারো দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হবে না৷ এজন্যে কারিগরি শিক্ষার উপর জোড় দিয়ে এই খাতে আমাদের বরাদ্দ বাড়াতে হবে৷ আমাদের সন্তানদের কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত করে বিনা সুদে ক্ষুদ্র ঋণের ব্যবস্থা করতে পারলে সরকার এবং জনগন উভয়ই অনেক লাভবান হবে বলে মনে করি৷ এক কথায় বলতে গেলে বাজেট গণমুখী করার বিকল্প নেই৷

আরও পড়ুন...

করোনার কাগুজে হিসাব দেখে লাভ নেই

অনলাইন ডেস্ক. পরিবর্তন সংবাদ

প্রসঙ্গ উত্তরবঙ্গ (বাংলাদেশ)

অনলাইন ডেস্ক. পরিবর্তন সংবাদ

প্রবাসী আয় ধরে রাখতে যা করতে হবে

অনলাইন ডেস্ক. পরিবর্তন সংবাদ