28 C
dhaka
সোমবার, ১৪ই জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৩১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | রাত ২:২৯
দৈনিক পরিবর্তন সংবাদ

সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতে গুটিকয়েক স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তির ছোবলে দফতরগুলো– মাশরূর হোসাইন৷

প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টের আওতায় মামলা করা হয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে। সেই মামলায় তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় নথি চুরি এবং অনুমতি ছাড়া সেই নথির ছবি তোলার অভিযোগ আনা হয়েছে। যেহেতু বিষয়টি  বিচারাধীন সেহেতু মূল বিষয়টি নিখুঁত এবং নিরপেক্ষ সুষ্ঠু তদন্ত রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত এবিষয়ে কোন মন্তব্যে না গিয়ে বরং বিগত সময়ের স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের কিছু অনিয়ম ও দূর্নীতির বিষয়ে তথ্য সম্বলিত কিছু প্রতিবেদনের উপর আলোচনা করা যাক৷

আমরা বর্তমানে খুব নাজুক পরিস্থিতির মধ্যে আছি৷ করোনা মহামারী আমাদের জনজীবনকে অস্থির করে তুলেছে৷ প্রতিদিন আমরা আমাদের কাছের বা পরিচিতজন বা আত্মীয়কে হারিয়ে ফেলছি৷ এ পরিস্থিতিতে সরকারের দূরদর্শী চিন্তাভাবনা ও নেতৃত্বগুনের কারনে আমরা করোনা মোকাবেলায় অনেক উন্নত ও স্বনির্ভর দেশ থেকেও এগিয়ে আছি৷ আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অবশ্যই এ প্রশংসার দাবীদার৷  আমরা জনগন যদি আরেকটু সচেতন হতাম তবে বা হই তবে আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি করোনা মোকাবেলায় আমাদের বেগ পেতে হবে না বা ভারতের মত কঠিন ও বৈরী পরিস্থিতিতেও আমাদের পরতে হবে না৷ প্রধানমন্ত্রী দেশের কল্যানে সব সময় আন্তরিক৷ যখন যা প্রয়োজন, যা কিছু দরকার কোন কিছুতেই কখনো তিনি কার্পণ্য করেন নাই৷ কিন্তু দুঃক্ষের বিষয় আমাদের চেইন সিস্টেমটা অত্যন্ত জটিল৷ সরকার থেকে বরাদ্দ আসে ঠিকই কিন্তু তা ভোক্তা পর্যন্ত পৌছাতে পৌছাতে কিছু দূর্নীতিবাজের কারনে তা বিনস্ট হয়ে যায়৷ এই সব দূর্নীতিবাজ চোর কারা তা আমাদের চিহ্নিত করতে হবে৷ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আক্ষেপ করে বলেছিলেন, “দুর্নীতিবাজদের যদি খতম করতে পারেন তা হলে বাংলাদেশের মানুষের শতকরা ২৫ থেকে ৩০ ভাগ দুঃখ চলে যাবে। এত চোরের চোর, এই চোর যে কোথা থেকে পয়দা হয়েছে তা জানি না। পাকিস্তান সব নিয়ে গিয়েছে কিন্তু এই চোর তারা নিয়ে গেলে বাঁচতাম। এই চোর রেখে গিয়েছে। কিছু দালাল গিয়েছে, চোর গেলে বেঁচে যেতাম।”

বিগত বিএনপি জামাত জোট সরকারের আমলে দুর্নীতিতে ৫ বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়া দেশ আজ মাথা উচু করে দাঁড়াতে সক্ষম হয়েছে শুধুমাত্র মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর নেতৃত্বগুনের কারনে৷ কিন্তু কতিপয় স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তির হাতে জিন্মি আমাদের সরকারী দফতরগুলো৷ তাদের নিয়োগ কালীন সময়ের সুপারিশগুলো যাচাই বাছাই করলেই থলের বিড়াল বেড়িয়ে আসবে৷ এরা দেশ ও জাতির শত্রু৷ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অক্লান্ত পরিশ্রমের কল্যানে দেশ যখন এগিয়ে যাচ্ছে ঠিক তখনই সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার লক্ষে এসব গুটিকয়েক কিছু দূর্নীতিবাজের কারনে সরকারের সফলতা, কর্মক্ষনতা ও চলমান উন্নয়নের ধারাবাহিকতা তা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে৷ এদের উদ্দেশ্য হল এরা চুরি চামারি করে নিজের আখের গুছাবে৷ এতে দেশের কি ক্ষতি হলো, জনগনের কি ক্ষতি হলো এসব তাদের বিষয় না৷ এদের খুটির জোড় কোথায় সেগুলো আমাদের চিহ্নিত করতে হবে৷ আমরা জানি আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিকবান্ধব সরকার৷ বিগত সময়েও আমক্রা দেখেছি তিনি বিভিন্ন সময়ে সাংবাদিকদের পাশে ছিলেন৷ সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন সব সময়৷ আমরা এও দেখেছি যে আওয়ামীলীগ সরকার কখনো সাংবাদিকদের প্রতিদ্বন্দ্বী ভাবে নাই৷ যদি তাই ভাবতো তবে এই সরকারের আমলে এতো এতো টিভি চ্যানেল, আইপি টিভি, অনলাইন চ্যানেল সহ অন্যান্য অনেক পত্রিকা নতুন  ভাবে চালু হতো না৷ অনুমোদন পেতো না৷ আমাদের প্রধানমন্ত্রী গণমাধ্যমের পক্ষে বলেই আজ আমরা সরকারি দফতরের বিভিন্ন দূর্নীতির খবর পাচ্ছি৷

সাংবাদিকদের নির্ভরযোগ্য অনুসন্ধানের ভিত্তিতে ও বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকের তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে এই করোনাকালীন সময়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের অধীনস্থ বিভিন্ন দফতরে অনেক দূর্নীতির চিত্র আমরা দেখেছি৷ স্বাস্থ্যখাতে নিয়োগে ঘুষ বাণিজ্য, কেনাকাটায় দুর্নীতি আর অনিয়মের অনেক খবরও প্রকাশিত হয়েছে, যেসব খবরের কোন প্রতিবাদও আসেনি সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে।

কিন্তু মহামারির সময়ে এই খাতে অনিয়ম ও দুর্নীতির পরিমাণ অনেক বেড়েছে বলে দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ বা টিআইবি গত বছর একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে। টিআইবি বলছে, করোনাভাইরাস মহামারীকে কেন্দ্র করে স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতির মহোৎসব হচ্ছে৷

নিম্নমানের পিপিই ও নকল এন ৯৫ মাস্ক৷ এই মাস্ক কেনার বিতর্কের মধ্যেই কেন্দ্রীয় ঔষধাগারের (সিএমএসডি) পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মো. শহিদুল্লাহকে সেনা সদর দপ্তরে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। দায়িত্ব ছাড়ার আগে জনাব শহিদুল্লাহ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কাছে লেখা এক চিঠিতে বলেন, স্বাস্থ্যখাতের কেনাকাটা নিয়ন্ত্রণ করে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের নিয়ে তৈরি একটি সিন্ডিকেট। শেষমেষ কোভিড আক্রান্ত হয়েই মারা যান তিনি। তবে সেই অজ্ঞাত সিন্ডিকেট এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে৷

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বহুল আলোচিত দুর্নীতির অভিযোগের ব্যাপারে তদন্ত শুরু করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তিন দিন পর মাস্ক, পিপিই, স্যানিটাইজার, আইসিইউ সরঞ্জাম, ভেন্টিলেটর, পিসিআর মেশিন ও টেস্ট কিট সংগহে গৃহীত প্রকল্পগুলোর ব্যাপারে বিশদ তথ্য চেয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে চিঠিও দেয় দুদক। তদন্তের অংশ হিসেবে দুদক নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিভিন্ন স্থানে বদলি হওয়া ডাক্তারদের ব্যাপারেও মন্ত্রণালয়ের কাছে তথ্য চায়। এর আগে স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতির উৎস চিহ্নিত করে সতর্কবার্তাসহ ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে একটি প্রতিবেদন পাঠায় সংস্থাটি। প্রতিবেদনে বলা হয়, দায়িত্বশীলদের যথাযথ তদারকির অভাবের সুযোগে ওষুধ, সার্জিক্যাল সরঞ্জাম ও মেশিন কেনায় দুর্নীতির ঘটনা ঘটে। মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ঠিকাদার ও কর্মকর্তাদের একটি চক্র ‘অর্থ আত্মসাতের জন্য অনেক অপ্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম কিনে থাকে’ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। ব্যক্তিগত সুরক্ষাসামগ্রী সরবরাহের জন্য ৩২ কোটি টাকার কাজ দেওয়া হয় নামসর্বস্ব একটি অটোমোবাইল কোম্পানিকে। জাদিদ অটোমোবাইলস নামের ওই প্রতিষ্ঠানের এ ধরনের মালামাল সরবরাহের কোনো অভিজ্ঞতাই ছিল না। সাড়ে ৯ কোটি টাকা আগাম দেওয়ার পরও যথাসময়ে কোনো মালামাল দেয়নি। পরে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠলে কিছু মাস্ক ও গ্লাভস সরবরাহ করেছিল। কিন্তু তার মধ্যে ২৪ হাজার মাস্ক ব্যবহারের অনুপযোগী। স্বাস্থ্য খাতের নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অন্তত ১১টি উৎস চিহ্নিত করে তা প্রতিরোধে ২৫ দফা সুপারিশ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।  দুদকের গঠিত ‘স্বাস্থ্য অধিদফতর সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানিক টিম’ অনুসন্ধান শেষে কমিশনের কাছে এসব সুপারিশ দাখিল করে। প্রতিবেদনটি স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকের কাছে হস্তান্তর করেছিলেন দুদকের কমিশনার (অনুসন্ধান) ড. মোজাম্মেল হক খান।

করোনাকালে আরেক আলোচিত নাম ছিল আবদুল মালেক ওরফে বাদল। তিনি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গাড়িচালক। পেশায় গাড়িচালক হলেও অঢেল সম্পদের মালিক তিনি। সুনির্দিষ্ট কিছু অভিযোগের তদন্ত করতে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঢাকায় তাঁর দুটি সাততলা ভবন, নির্মাণাধীন একটি দশতলা ভবন, জমি, গরুর খামার খুঁজে পায়। দুদক প্রাথমিক অনুসন্ধানে ঢাকার একটি মৌজাতেই মালেক ও তাঁর স্ত্রী নার্গিস বেগমের সাতটি প্লটের সন্ধান পায়। গত ২০ সেপ্টেম্বর তুরাগের বামনারটেক এলাকার একটি সাততলা ভবন থেকে মালেককে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে নিজের পরিবারের সাত সদস্যের চাকরির ব্যবস্থা করেন মালেক। ২০০৯-১০ সালে স্বাস্থ্য সহকারী পদে শতাধিক লোককে নিয়োগ পাইয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রেও তাঁর হাত ছিল বলে জানা যায়৷

করোনার ভুয়া টেস্ট জালিয়াতি, কেলেঙ্কারি ও নানা বিতর্কের মধ্যেই পদত্যাগ করেছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডাঃ আবুল কালাম আজাদ।

এবার আসি জেকেজির ডাক্তার সাবরিনা দম্পতির প্রতারনা এবং রিজেন্টের সাহেদ কান্ডে৷ রিজেন্টের লাইসেন্স ২০১৪ সালে শেষ হয়ে যাওয়ার কথা ভালোভাবে জেনেও হাসপাতালটির সঙ্গে চুক্তিপত্র সই করেছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। চুক্তিপত্র সইয়ের অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকও উপস্থিত ছিলেন। তার উপস্থিতির ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছিল। এরপরের বিষয়গুলো সবারই জানা৷

ভুয়া কোভিড-১৯ সার্টিফিকেটের খবর কেবল জনস্বাস্থ্যের জন্যই ঝুঁকি ছিল না, প্রবাসী বাংলাদেশিদেরও এটি সমস্যায় ফেলেছে। এ খবরে তখন অনেক দেশের দরজাই বাংলাদেশিদের জন্য বন্ধ হয়ে যায়।

সব কিছু পর্যালোচনা করে দেখা যায় গুটিকয়েক অসৎ দূর্নীতিবাজরা সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার লক্ষে সরকারের সকল সৎ প্রচেস্টা ও চলমান উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বিনস্ট করার যে ছক তৈরী করেছে তা যদি সমূলে ধ্বংশ না করা হয় তবে তা দেশ জাতি ও মানুষের জন্যে হুমকি হয়ে দাঁড়াবে৷ তাই নিজেদের স্বার্থে ও দেশের উন্নয়নের লক্ষে আমাদের নিজ নিজ স্থান থেকে দূর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে হবে এবং সরকারের চলমান উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষায় সামিল হতে হবে৷

আরও পড়ুন...

কালের বিবর্তনে ভালোবাসার স্মৃতিবিজড়িত ডাকঘরগুলো আজ বিলিনের পথে

অনলাইন ডেস্ক. পরিবর্তন সংবাদ

ক্রান্তিকালেও পরিবহন চাঁদাবাজি!

অনলাইন ডেস্ক. পরিবর্তন সংবাদ

মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী :আপনার আলোয় কেটে যাক শিক্ষাব্যবস্থার দুর্দিন

অনলাইন ডেস্ক. পরিবর্তন সংবাদ