28 C
dhaka
মঙ্গলবার, ১৫ই জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১লা আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | দুপুর ১২:২৫
দৈনিক পরিবর্তন সংবাদ

বাংলা চলচ্চিত্রে কবরী এক উজ্জ্বল নক্ষত্র : প্রধানমন্ত্রী

বিনোদন ডেস্কঃ কিংবদন্তি বরেণ্য অভিনেত্রী-নির্মাতা সারাহ বেগম কবরীর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

১৭ এপ্রিল এক শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, এদেশের চলচ্চিত্রে কবরী এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। অভিনয়ের পাশাপাশি রাজনীতি ও সংস্কৃতি অঙ্গনে তার অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
প্রধানমন্ত্রী মরহুমার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

শুক্রবার দিবাগত রাত ১২ টা ২০ মিনিটে রাজধানীর শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট হাসপাতালে লাইফ সাপোর্ট থাকা অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালীন সময়ে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭০ বছর। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কবরীর ছেলে শাকের চিশতী এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খান।

চলতি মাসের (৫ এপ্রিল) কবরীর করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়। ওই রাতেই তাকে রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর (৭ এপ্রিল) রাতে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। এরপর ৮ এপ্রিল দুপুরে শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতালে কবরীর জন্য আইসিইউ পাওয়া যায়। ওই হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত তাকে লাইফসাপোর্টে নেওয়া হয়েছিল। জীবনের সঙ্গে ১৩ দিন লড়াই করে অবশেষে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে না ফেরার দেশে পাড়ি দিলেন কবরী।

ঢাকাই চলচ্চিত্রের ‘মিষ্টি মেয়ে’ খ্যাত খ্যাতিমান অভিনেত্রী কবরী ১৯৫০ সালে চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে জন্মগ্রহণ করেন। তার আসল নাম ছিলো মিনা পাল। বাবার নাম শ্রী কৃষ্ণদাস পাল ও মা এর নাম ছিলো লাবণ্য প্রভা পাল। ১৯৬৩ সালে মাত্র ১৩ বছর বয়সে তিনি নৃত্যশিল্পী হিসেবে মঞ্চে উঠেছিলেন। তারপর টেলিভিশন ও পরে সিনেমায় পা রাখেন এই কিংবদন্তি।

১৯৬৪ সালে সুভাষ দত্ত পরিচালিত ‘সুতরাং’ ছবির মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে নায়িকা হিসেবে অভিষেক হয় ঢাকাই চলচ্চিত্রের ‘মিষ্টি মেয়ে’-খ্যাত কবরীর। আর সে সময়ই মিনা পাল থেকে তার নাম হয়ে যায় সারাহ বেগম কবরী। পরিচালক সুভাষ দত্তই তাকে এই নাম দিয়েছিলেন বলে জানা যায়। এরপর একে একে তিনি উপহার দিয়েছেন ‘বাহানা’, ‘তিতাস একটি নদীর নাম’, ‘রংবাজ’, ‘সারেং বউ’, ‘সুজন সখী’সহ অসংখ্য কালজয়ী চলচ্চিত্র।

দীর্ঘ ক্যারিয়ারে পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, বাচসাস পুরস্কারসহ অসংখ্য পুরস্কার। তিনি আওয়ামী লীগ থেকে সংসদ সদস্য হয়েছিলেন। অভিনয়ের পাশাপাশি চলচ্চিত্র পরিচালনা, প্রযোজনা করেছেন। তার পরিচালিত প্রথম ছবির নাম ‘আয়না’।

অভিনেত্রী কবরী প্রথম বিয়ে করেন চিত্ত চৌধুরীকে। পরে সম্পর্ক বিচ্ছেদের পর আবারও বিয়ের পীড়িতে বসেন ১৯৭৮ সালে। বিয়ে করেন সফিউদ্দিন সারোয়ার কে। কিন্তু ২০০৮ সালে এসে এই সংসারও ভেঙে যায় তার। কবরী পাঁচ সন্তানের জননী।
অভিনয়ের পাশাপাশি কবরী রাজনীতির মাঠেও ছিলেন সক্রিয়। ২০০৮ সালে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পাশাপাশি যুক্ত ছিলেন নারী অধিকার ও সমাজসেবামূলক বিভিন্ন সংগঠনের সাথে। ২০১৭ সালে অমর একুশে বইমেলায় প্রকাশিত হয়েছে তার আত্মজীবনীমূলক বই ❝স্মৃতিটুকু থাক।❞

সম্প্রতি তিনি পরিচালনা করেছেন তার দ্বিতীয় ছবি ‘এই তুমি সেই তুমি’। ছবিটি সরকারি অনুদানে নির্মিত হচ্ছে। কিন্তু ছবিটির কাজ অসম্পন্ন রেখেই চলে গেলেন তিনি।

আরও পড়ুন...

আমি অভিনয় করতে ভালোবাসি – শশী আফরোজা

অনলাইন ডেস্ক. পরিবর্তন সংবাদ

আমার বউ অন্য কারো হয়ে গেল!

অনলাইন ডেস্ক. পরিবর্তন সংবাদ

ঈদে আসছে সাইকো-থ্রিলার মুভি ‘প্ল্যানার’

অনলাইন ডেস্ক. পরিবর্তন সংবাদ