28 C
dhaka
সোমবার, ১৪ই জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৩১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | রাত ২:১৯
দৈনিক পরিবর্তন সংবাদ

করোনায় অর্থনৈতিক সচ্ছলতা আনতে ফ্রন্টলাইন যোদ্ধা ব্যাংকাররাই সুদূরপ্রসারী ও অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে পারেন

মোঃ আশরাফুল আলম
ম্যানেজার, অগ্রনী ব্যাংক লিঃ
তামাবিল শাখা,সিলেট

নয়া করোনা ভাইরাসের কারণে সৃষ্ট বৈশ্বিক মহামারীর এই কঠিন সময়ে সবাই উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন পার করছেন। মহামারী প্রকোপের কারণে যেমন ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে মন্দাভাব বিদ্যমান রয়েছে, তেমনি ব্যাংকিং খাতেও বিরূপ প্রভাব অব্যাহত রয়েছে।
Pandemic পরিস্থিতির কারণে গত এপ্রিল এবং মে মাসে ঋণের সুদ স্থগিত করায় আয়ের খাত অনেক সংকুচিত হয়ে এসেছে। তাছাড়া গত এপ্রিল থেকে আমানত ও ঋণের সুদের হার ছয়-নয় কার্যকর হওয়ায় ব্যাংকিং খাত দিশেহারা হয়ে পড়েছে। আমানতকারীদের আমানতের বিপরীতে ব্যাংকগুলোকে মোটা অংকের সুদ প্রদান করতে হয়। বেসরকারি খাতের বেশ কিছু ব্যাংক আমানতের ঘাটতি পূরণের জন্য ৯ শতাংশ বা তার বেশি সুদ প্রদান করে আমানত সংগ্রহ করে থাকেন।।।। আমরা জানি, ব্যাংক হলো মধ্যস্থতাকারী আর্থিক প্রতিষ্ঠান যা জনগণ ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নিকট হতে নগদ অর্থ জমা রাখে এবং তাদের ঋণদান করে। ঋণ ও আমানতের হারের মধ্যবর্তী যে অংশটা থাকে সে অংশটা দিয়ে সামগ্রিক ব্যয় মিটিয়ে যে বর্ধিত অংশটুকু থাকে সেটিই মুনাফা হিসেবে বিবেচিত হয়। এখন যে ব্যাংকগুলো ৯ শতাংশ বা তার অধিক হারে আমানত সংগ্রহ করেছে তাদের জন্য অশনিসংকেত অর্থ্যাৎ “মরার উপর খাড়ার ঘা “। তাইতো সম্প্রতি বেসরকারি ব্যাংক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি) ১৩ দফা পরামর্শ দিয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম একটি হচ্ছে কর্মীদের বেতন কমানো। এরই মধ্যে কয়েকটি ব্যাংক বেতন সংকোচনের পরিপত্র জারি করে ফেলেছে। বেতন সংকোচনের নীতিতে অবতীর্ণ হওয়া সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে সিনেমার ভিলেন হিসেবে দেখছেন বিক্ষুব্ধ ব্যাংক কর্মীরা। যুক্তরাজ্যে ব্যাংকার ও ড্রাংকারদের নিয়ে কিছু বাস্তব শ্রুতি প্রচলিত আছে। ব্যাংকারদের অফিসে প্রবেশের সময় নির্ধারিত আছে কিন্তু অফিস থেকে বের হওয়ার নির্দিষ্ট সময় থাকলেও প্রয়োজনে অনেক রাত অবধি কাজ করতে হয়। তাই কাজ শেষে অফিস থেকে বাসায় ফিরতে অনেক রাত হয়। ততক্ষণে ড্রাংকাররাও রাস্তায় বেরিয়ে পড়েন। পুলিশ দূর থেকে ব্যাংকার ও ড্রাংকারদের অনুধাবন করতে না পারলে কাছে গিয়ে গন্ধ শুকে নিয়ে বুঝতে পারত কে ব্যাংকার বা কে ড্রাংকার।
যুগে যুগে ব্যাংকারদের পরিশ্রমের কথা সর্বজনস্বীকৃত। বিভিন্ন প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মধ্যে ব্যাংকাররা দেশের স্বার্থে কিংবা সমাজের স্বার্থে নিয়োজিত রেখেছেন। বর্তমান এই মহামারির সময়ও ব্যক্তিস্বার্থ উপেক্ষা করে ফ্রন্টলাইন থেকে স্বল্প সময়ে দ্রুততম সেবা দেওয়ার চেষ্টা অব্যাহত আছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বর্তমান এই সঙ্কটময় মুহূর্তে দেশের প্রান্তিক কিংবা দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য বিভিন্ন প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন এবং এগুলো বাস্তবায়নের নায়ক ব্যাংক কর্মীরাই। বিভিন্ন ক্ষেত্র বিবেচনায় ব্যাংকারদের মন মানসিকতাকে বিভিন্নভাবে উজ্জীবিত করার পরিবর্তে বিদ্যমান অধিকার খর্ব করলে তাদের প্রোডাক্টিভিটি কমে যাওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়।
ব্যাংকের আয় বাড়ানোর মূলভিত্তি ব্যাংকাররাই গড়ে তোলেন। অথচ আয় সম্প্রসারণের জন্য যদি তাদের বেতন সংকোচন করা হয় তবে এটি হবে “নেগেটিভ থিওরি অব মোটিভেশন”। ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ব্যাংক কর্মীরাই সে প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ। তাই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মীদের আগে বিনিয়োগ হিসেবে গণ্য করে ওই প্রতিষ্ঠানকে কর্মীবান্ধব হিসেবে বিবেচনায় নিতে হবে। কারণ, কর্মীদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে মুনাফা অর্জনের দ্বারপ্রান্তে ব্যাংকগুলো চলে আসে। তাই কর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন অত্যাবশ্যক। এই সংকটময় মুহূর্তে কর্মীদের উদ্বুদ্ধকরণে অধিক উৎসাহব্যঞ্জক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা দক্ষ ব্যবস্থাপনার পরিচায়ক।নিরাশার মধ্যে আশার আলো জ্বালিয়ে দিয়েছেন অনেক ব্যাংকের স্মার্ট ও দক্ষ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ। তারা বেতন সংকোচন নীতির মাধ্যমে কর্মীদের মনোবল ভাঙতে চান না বরং ব্যাংকারদের ত্যাগ-তিতিক্ষার কথা বিবেচনাপূর্বক বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির মাধ্যমে তাঁদের উজ্জীবিত রাখতে চান। এই করোনাকালে ব্যাংকগুলো সেবার মান বাড়ানোর জন্য বহুমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। যেমন, দেশের অন্যতম অগ্রনী ব্যাংক বিকাশের সাথে সম্পৃক্ত হয়েছে যাতে করোনাকালীন কঠিন সময়ে গ্রাহকগণ ঘরে বসেই ব্যাংকের টাকা হস্তান্তর করতে পারে এবং সর্বোপরি আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে অবদান রাখতে পারে। এছাড়াও দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধিকল্পে ও এই সংকটময় মুহূর্তে প্রবাসীদের প্রেরিত রেমিট্যান্সের বিপরীতে ২% এর সাথে অতিরিক্ত ১% অর্থ্যাৎ ৩% প্রণোদনা দিচ্ছে। আর এরই সাথে বাড়ছে রেমিট্যান্স প্রবাহ।
এছাড়াও বিভিন্ন ব্যাংক পেপারলেস ও ডিজিটাল ব্যাংকিং এর দিকে মনোযোগ দিচ্ছে। এই ক্রান্তিকালে বিভিন্ন ব্যাংকের ব্যাংকাররাই কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে সরকার ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজ গুলো বাস্তবায়ন করছেন অত্যন্ত দক্ষতা ও দৃঢ়তার সাথে। করোনার এই সংকটের মুহূর্তে অর্থনৈতিক সচ্ছলতা আনতে ফ্রন্টলাইন যোদ্ধা ব্যাংকাররাই সুদূরপ্রসারী অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে পারেন।

মোঃ আশরাফুল আলম
ম্যানেজার, অগ্রনী ব্যাংক লিঃ
তামাবিল শাখা,সিলেট

আরও পড়ুন...

ব্যাংকে লেনদেনে নতুন সময়, ‘রেড জোনে’ শাখা বন্ধ

অনলাইন ডেস্ক. পরিবর্তন সংবাদ

চা শিল্পেও করোনার থাবা, কমেছে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা

অনলাইন ডেস্ক. পরিবর্তন সংবাদ

৯ বছরে সর্বোচ্চ সোনার দাম

অনলাইন ডেস্ক. পরিবর্তন সংবাদ